দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর ও দক্ষিণ গাজাজুড়ে মঙ্গলবার ভোরে একাধিক ভবন ও বেসামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ ও সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অন্তত তিন দফায় বড় পরিসরে অবশিষ্ট ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস করে ইসরায়েলি বাহিনী।
এ সময় ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি দক্ষিণ গাজার রাফাহর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গোলাবর্ষণ চালানো হয়।
উত্তর গাজায় গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের আল-তুফ্ফাহ এলাকার আল-সানাফুর মোড়ের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি ধ্বংসযজ্ঞের সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ ছাড়া আল-তুফ্ফাহ ও শুজাইয়া এলাকার পূর্বদিকে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সামরিক যান থেকেও ভারী গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের কথাও জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজার বিভিন্ন অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত সীমারেখার পশ্চিম দিকে কংক্রিটের প্রতিবন্ধক সরিয়ে নিষিদ্ধ এলাকা আরও বড় করা হয়েছে, যার ফলে নতুন করে অনেক ফিলিস্তিনিকে এলাকা ছাড়তে হয়েছে।
বর্তমানে গাজার ভেতরে থাকা এই বাফার জোন বা ‘ইয়েলো লাইন’ বরাবর ইসরায়েলি বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ওই এলাকার কাছাকাছি যেতে ফিলিস্তিনিদের নিষেধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে গাজার ৭০ শতাংশেরও বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর বিভিন্ন পদক্ষেপে ১ হাজার ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৩৮০ জন আহত হয়েছেন। আহত ও নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
এদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, এই সময়ে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
জে আই